মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
খাল খননে জলাবদ্ধতা কমবে, বাড়বে কৃষি উৎপাদন: সোহেল মঞ্জুর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ, নরসিংদীতে ৫০ লাখ ঈদের ছুটিতে ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা র‍্যাব-সিআইডি-এসবি প্রধান পরিবর্তন জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে ২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি কিনছে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশ হবে এবার রোগমুক্ত: আমান উল্লাহ আমান দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশ ছাড়া চলবে না : আইজিপি আগৈলঝাড়ায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল ঈশ্বরগঞ্জে উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর ১৪ বস্তা চাল চাল জব্দ ভোটের কালি মোছার আগেই আমরা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী
হবিগঞ্জে মোবাইল বিস্ফোরণে শিশুর মৃত্যু

হবিগঞ্জে মোবাইল বিস্ফোরণে শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের বাহুবলে চার্জ করতে গিয়ে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের চকগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু সাজু মিয়া (১২) ওই গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে।

বুধবার বেলা ১টার দিকে মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে সাজু নিজের পড়নের শার্টের পকেটে ফোনটি রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর মোবাইলটি অতিরিক্ত চার্জ হয়ে বিস্ফোরিত হলে সাজু মিয়া মারা যায়। মোবাইল ফোনটি বিস্ফোরিত হওয়ার কারণে তার বুকের বাম পার্শ্বে ঝলসে গেছে। সেটি কি মোবাইল ছিল জানা যায়নি। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুটিজুরী ইউপি চেয়ারম্যান মো. তারা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ফেনীতে মোবাইলের ব্যাটারি বিস্ফোরণে স্বপ্নীল মজুমদার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

নিহত স্বপ্নীল মজুমদার ফেনীর চাড়ীপুর এলাকার সুমন মজুমদারের ছেলে। সে ঢাকা আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।

নিহতের ভাই সজীব জানান, মোবাইল চার্জ দিয়ে ঘুমাতে যায় সুমন। এ সময় ঘরের লাইট বন্ধ করতে অন্য একটি সুইচ চাপ দিলে বিকট শব্দে মোবাইল ফোনটি বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো ঘরে আগুন ধরে আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড়সহ সপ্নীল মজুমদারের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে যায়।

স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আধুনিক ফেনী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

ফেনী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ কবির আহম্মদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-মোবাইল বিস্ফোরণেই স্বপ্নীল দগ্ধ হয়।

বিস্ফোরণের কারণ : মোবাইল ফোন কেন বিস্ফোরিত হয়? এ প্রশ্নের জবাবে মোবাইল ফোন কোম্পানি সিম্ফনির কোয়ালিটি কন্ট্রোলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাধারণত আমরা যে রিপোর্টগুলো পাই, তা হলো, মোবাইল ফোন চার্জ দেয়া অবস্থায় কথা বলার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। আর বিস্ফোরিত হয় ব্যাটারি। কারণ মোবাইল ফোনে ব্যাটারিই একমাত্র বিস্ফোরকের মতো। মোবাইল ফোনের ব্যাটারি যখন চার্জ হয় সে পাওয়ার কনজিউম করে। একই সময়ে যদি ওই ফোন দিয়ে কথাও বলা হয় তাহলে পাওয়ার কনজাম্পশন আরও বেড়ে যায়। ফলে ব্যাটারি সাধারণ মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত হয় এবং বিস্ফোরিত হতে পারে।

তিনি বলেন, এর বাইরে আমরা মনে করি সাধারণত তিন কারণে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হতে পারে। ম্যাটেরিয়াল, কন্ট্রোল এবং শর্টসার্কিট।
প্রথমত, ব্যাটারি যদি নিম্নমানের হয় তাহলে চার্জের সময় সে প্রচুর হিট কনজিউম করে গরম হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ব্যাটারিতে টেম্পারেচার কন্ট্রোল সার্কিটসহ আরও কিছু সার্কিট এবং কন্ট্রোল মোড ব্যবহার করা হয়। এগুলো যদি ঠিকভাবে কার্যকর না থাকে তাহলেও বিস্ফোরিত হতে পারে।
আর তৃতীয়ত, যেসব ব্যাটারি হ্যান্ড সেট থেকে খোলা যায়না সেসব ব্যাটারির কানেকশন পয়েন্টে শর্টসার্কিট হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভীর জোহা বলেন, এ বিস্ফোরণের ঘটনা শুধু মোবাইল ফোন নয়, ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। আর এটা প্রধানত নিম্নমানের জন্যই ঘটে থাকে। মাদারবোর্ডের বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটর এবং প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) কিট থাকে। এ কিটগুলোর সঙ্গে পাওয়ারে সিঙ্ক্রোনাইজেশন না থাকলেই সাধারণত বিস্ফোরণ ঘটে। এটা উৎপাদনের ত্রুটি।

তিনি বলেন, চার্জারে কানেকশন দিয়ে একই সঙ্গে কথা বলা বা অনলাইনে কাজ করলে মাদার বোর্ড, আইসি প্রভৃতি দিক দিয়ে অনেক বেশি তাপ উৎপাদন হবে। তখন প্রচণ্ড তাপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়।

এ বিস্ফোরণের সময় পুরো ডিভাইসটিই শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরকে পরিণত হয়। বেশিরভাগ বিস্ফোরণ যেহেতু কথা বলার সময় হয় তাই মুখমণ্ডলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এটা চার্জ দেয়ার সময় ছাড়াও বিস্ফোরিত হতে পারে।

পরামর্শ : ভালো মানের ফোন বা ল্যাপটপ কেনা, ফোন বা ডিভাইস বন্ধ করে চার্জ দেয়া, চার্জ দেয়া অবস্থায় ব্যবহার না করা। এছাড়া যদি চার্জ দেয়ার সময় বা ব্যবহারের সময় সাধারণ মাত্রার চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয় তাহলে তার ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যেতে হবে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011-2025 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com